জয়পুরহাটে স্ত্রীর মামলায় কারাগারে কাস্টমস কর্মকর্তা

জয়পুরহাটে স্ত্রীর মামলায় কারাগারে কাস্টমস কর্মকর্তা

মোয়ান্নাফ হোসেন শিমুল, জয়পুরহাট


জয়পুরহাটে স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় স্বামী কাস্টমস কর্মকর্তা জুবায়ের রহমান (৩২) কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে স্ত্রী খাইরুন নেছার মামলায় সে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে জয়পুরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর আলম জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জজ কোর্টের ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ খান।

জুবায়ের রহমান সাতক্ষীরা সদর পলাশপোল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। সে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

মামলার বিবরণ ও আদালত সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৪ সালে স্কুল শিক্ষিকা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিনইল গ্রামের আজগর আলীর মেয়ে খাইরুন নেছার সাথে কাস্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা জুবায়ের রহমানের বগুড়া নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেফিটের মাধ্যমে বিয়ে হয়। এরপর তারা বগুড়া শহরের কলোনী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ২০১৮ সালে তার স্ত্রী গর্ভবতী হলে সে বেকার থাকার অজুহাতে স্ত্রীকে গর্ভপাত করায়। পরে স্ত্রীর পরিবার বিষয়টি টের পাইলে জুবায়েরকে কাবিনমুলে বিয়ে করতে বলে। ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর সে তাকে ১৬ লক্ষ টাকা দেনমোহরে বগুড়ার কাহালু পৌরসভার কাজী অফিসে রেজিষ্ট্রি কাবিনমুলে বিয়ে করেন। জুবায়ের বেকার বলে তার বিয়ে পরিবার মেনে নিবেনা মর্মে অজুহাত দেখিয়ে বিয়ের সময় সে তার ঘনিষ্টজন কাউকেও হাজির করে নাই বলে জানায়।

এমন অবস্থায় তার স্ত্রী সেই বাড়ি ছেড়ে দিয়ে বাবার বাড়িতে আসে এবং সেখানে প্রতিনিয়তই জোবায়ের শশুর বাড়ি হিসেবে যাতায়াত করতো এবং স্বামী স্ত্রী একসাথে বসবাস করতো। পরে তার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। এদিকে পরে জুবায়েরের একটি ব্যাংকে চাকুরী হয়। স্ত্রী তাকে তার বাড়িতে তুলে নেওয়ার জন্য বললে সে বারবার আশ্বাস দেয়। একপর্যায়ে সে অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ বিষয়টি গোপন রেখে সে তার শশুর বাড়িতে যাতায়াত করতো। এরই মাঝে সে তার স্ত্রীর স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক বাড়ির ওয়াড্রপ থেকে চুরি করে নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে। এঘটনায় কালাই থানায় একটি মামলা হয়েছে। পরে প্রথম বিয়ে গোপন করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার জামুকী গ্রামের খাতিজাতুল কোবরা নামে এক নারীকে ২য় বিয়ে করেন সে। সে নারী প্রথম স্ত্রীর কথা জানতে পেরে তার সাথে বিচ্ছেদও হয়।

এদিকে এক পর্যায়ে সে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় খাইরুন নেছার সাথে। পরে তার স্ত্রী তাকে বারবার ফোনে অনুরোধ করলে সে শশুর বাড়িতে এসে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সে যৌতুক দিতে অপরাগত প্রকাশ করলে সে লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। এঘটনায় তার স্ত্রী তার নামে আদালতে একটি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা করেন। পরে ঘটনাটি মিমংসা করার জন্য পুনরায় সেখানে আসলে আবারও ১০ লাখ টাকা দাবী করে। স্ত্রী এতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করে চলে যায়। পরে খাইরুন নেছা আদালতে যৌতুক আইনে একটি মামলা করেন। এ মামলার ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়। আদালতে এসে সে জামিন আবেদন করলে আদালত নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মন্তব্য করুন

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




বিজ্ঞাপন

সর্বস্বত্ব সত্বাধিকার সংরক্ষিত © tulshigonga.com © এই পোর্টালের নিউজ ও ছবি অনুমতি ছাড়া কপি নিষেধ  
Design BY NewsTheme