আক্কেলপুরে স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও গণকবরে যাবার রাস্তা হয়নি

আক্কেলপুরে স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও গণকবরে যাবার রাস্তা হয়নি

সফিউল আলম সফি,স্টাফ রিপোর্টার


জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ডের এক মাঠে অবস্থিত স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদারদের হাতে নিহত বীর মুক্তি যোদ্ধা ও মুক্তিকামী প্রায় ১৮জনের গণকবরে যাবার রাস্তাটি স্বাধীনতার দীর্ঘ্য ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে যাতায়াতের কোন রাস্তা নির্ম্মিত হয়নি আজও।

১৯৭১ সালে পাক হানাদার জান্তারা এ দেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের সহায়তায় এ দেশের শোষিত মানুষকে আরো শোষণ ও হত্যার মধ্যে দিয়ে পদদলিত করার অপচেষ্টা চালাতে থাকে। সেই পাকজান্তা শোষিতদের করাল থেকে এ দশের মানুষকে মুক্ত করতে জাতীর জনক বঙ্গ বন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন।

সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এ দেশের সব শ্রেণি পেষার মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সে ময়টায় দেশের অন্যান্য স্থানের মতো আক্কেলপুর রেলষ্টেশন ও মাদ্রাসা মাঠে পাকিস্তানী সেনারা ক্যাম্প স্থাপন করে তাদের অপকর্ম শুরু করে। সেই মাদ্রাসা ক্যাম্পে তারা স্থাপন করেছিল নির্যাতন শেল। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময় সেই পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা এ দেশের গুটি কয়েক স্বাধীনতা বিরোধীদের সহায়তায় হত্যা, নির্যাতন, নারী ধর্ষন ,বাড়িঘড়ে অগ্নি সংযোগ এবং লুটপাট করতে থাকেন। যাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করে গণকবর দেয়া হয়েছিল তারা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষ।

যাদেরকে হত্যা করা হতো তাদেরকে তৎকালীন উপজেলার রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আমট্র বেলার মাঠের মধ্যে, ( সেসময় সেখানে একাটি পাইকড় গাছ ছিল) সেই গাছের পার্শ্বে বর্তমান আক্কেলপুর ফিলিং ষ্টেশনের পুর্ব-দক্ষিণকোণ ও রেল লইনের পশ্চিম দিকে এবং আক্কেলপুর ফিলিং ষ্টেশন থেকে সামান্য পশ্চিমে সিএন্ড বি রাস্তার দক্ষিণ পার্শ্বে এবং একই স্থানের উত্তরে সে সময়ের একটি পরিত্যাক্ত ইটভাটায় গণকবর করে সেই গণকবরে পর্যায় ক্রমে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামীদের হত্রা করে গণকবর দিত।

স্বাধীনতা যুুদ্ধের পর সেই বেলার মাঠের গণ কবর থেকে প্রায় ১৮ থেকে প্রায় ২৩ জনের দেহবাশেষ সেই গন কবরে রয়েছে বলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সহ অনেকের দাবী।

সেই সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামীদের স্মুতিকে অম্লান করতে বিগত ১৯৯০ সালের দিকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বীর মুক্তি যোদ্ধা নুর হোসেন তালুকদার, পরবর্তীতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক ও পরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ছিলেন। ( বর্তামানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে) তাঁর প্রচেষ্টায় বেলার মাঠের সেই গণকবরে বাউন্ডারী দেয়াল সহ ছোট একট্ িস্মৃতিস্তম্ভ তৈরী করেছিলেন। আজও দুর থেকে সকল পথচারী , ট্রেন যাত্রী ও বাস যাত্রীদের নজরে পড়ে। ক্ষণ সময়ের জন্য হলেও সকলকে মনে করে দেয় স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই স্মৃতিকে।

৯ মাস যুদ্ধ করে বাংগালী জাতিকে স্বাধীনতার একটি লাল সবুজের পতাকা দিয়ে গর্বিত করেছেন প্রায় ৮৯ বছর পুর্বে কিন্তু আজ পর্যন্ত বেলার মাঠের সেই গণকবরের পার্শ্বে গিয়ে দাঁড়িয়ে সেই আত্বত্যাগীদের আত্বার মাগফেরাত কামনা ও সেই সকল শহীদদের বলতে পারি না ,আমরা ‘‘তোমাদের ভুলি নাই, কোনদিন ভুলব না” এ ই অবস্থায় রাস্তা ছাড়া পার করছি প্রায় ৪৯ বছর।

আক্কেলপুর বাসীর প্রত্যাশা অনতি বিলম্বে বেলার মাঠের সেই গণকবরে যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরীর সু- ব্যবস্থা করে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে রাস্তা তৈরীর পদক্ষেপ গ্রহণে এগিয়ে আসবেন সংশ্লিষ্টগণ।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আক্কেলপুরে ২টি গণকবর সহ অসংখ্যা হত্যার স্থান ও পৃথক পৃথক কবর রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বগুড়ার জলেশ্বতীতলার মোজাম পাইকারের ছেলে বীর মুক্তি যোদ্ধা খোকন পাইকাড়ের এর কবর। যার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে সেই বীর শহীদ যোদ্ধার নামে বগুড়া খোকন পার্ক নির্ম্মিত করেছেন বগুড়া বাসি।

মন্তব্য করুন

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




বিজ্ঞাপন

সর্বস্বত্ব সত্বাধিকার সংরক্ষিত © tulshigonga.com © এই পোর্টালের নিউজ ও ছবি অনুমতি ছাড়া কপি নিষেধ  
Design BY NewsTheme