চামড়ার বাজারে এহেন বিপর্যয় কেন?

চামড়ার বাজারে এহেন বিপর্যয় কেন?

সম্পাদকীয়:
চম্পক কুমার

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক শিল্পের পরেই ট্যানারি-শিল্পের অবদান। যদিও বিশ্বের মোট ট্যানারি-শিল্পের ক্ষুদ্র অংশই বাংলাদেশে উত্পাদিত হয়ে থাকে, তবুও এই ক্ষেত্রটি সম্ভাবনাময়। কারণ বিশ্বে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার এখন ২১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। বাংলাদেশে এই শিল্প ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও এই শিল্পের কাঁচামাল চামড়ার প্রধান জোগান আসে কোরবানি মৌসুমে।

এবার ঈদের কোরবানির পশুর চামড়ার দরে ব্যাপক বিপর্যয় হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী এবার ঈদে গরুর ৩৫ শতাংশ এবং ছাগলের ৮০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া যে চামড়া কেনাবেচা হয়েছে তা আবার নির্ধারিত দরের তুলনায় অনেক কম। দাম না পাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে চামড়া ফেলে দেয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আবার কোথাও নদীতে ভাসিয়ে, মাটিতে পুঁতিয়ে রাখা হয়েছে। এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে দরিদ্র মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর, কম দামে চামড়া কিনতে সিন্ডিকেট করার চেষ্টাসহ বিভিন্ন কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এদিকে দেশের ভেতর চামড়ার উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় তা পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এটাকে কি কোনোভাবেই শৃঙ্খলায় আনা যায় না? প্রতি বছরের মতো এবারো ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

লাখ টাকা দিয়ে কেনা কোরবানির গরুর চামড়ার দাম এবছর মাত্র ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। ২০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা খাসির চামড়ার দাম ৫০ টাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে মসজিদ মাদ্রাসা বা এতিমখানা কর্তৃপক্ষের লোকজনও এখন আর কোরবানির পশুর চামড়া নেওয়ার জন্য তেমন আগ্রহ দেখায় না। বাড়ির পাশের গরিব লোকেরাও এখন আর সাহায্য বাবদ চামড়ার টাকা দাবি করেন না। আগে কখনোই কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে এতটা অনাগ্রহ ছিল না। আড়তদারদের দাবি, নগদ টাকা না থাকায় তারা এ বছর বেশি দামে চামড়া কিনতে পারেন নি। আর ট্যানারি মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় চামড়ার দাম কমে গেছে। এছাড়াও গত বছর যে পরিমাণ চামড়া কেনা হয়েছে, তার অর্ধেকই রয়ে গেছে। যেহেতু চাহিদা কম, সেহেতু চামড়ার দামও কম।

এক সময় চামড়া রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করত বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে চামড়া শিল্প সেই অবস্থানে আর নেই। দিন দিন যেন এ শিল্পে ধস নামছে। ট্যানারি মালিকরা বলছেন, তাদের কাছে যেসব চামড়া মজুদ আছে তার কোনো ক্রেতা নেই। বাইরের দেশ থেকে কোনো ক্রেতা পাওয়া যচ্ছে না। তাই তারা নতুনভাবে চামড়া মজুদ করার সাহস পাচ্ছে না। চামড়া পাচার ঠেকাতে, সিন্ডিকেটবাজি ঠেকাতে মহল্লা ভিত্তিক ক্রয়কেন্দ্র বসানো দরকার। পাশাপাশি চামড়া যাতে যথাযথ মূল্যে বিক্রি হয় সে ব্যবস্থা করা দরকার। সরকারের উচিত এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা।

 

মন্তব্য করুন

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




বিজ্ঞাপন

সর্বস্বত্ব সত্বাধিকার সংরক্ষিত © tulshigonga.com © এই পোর্টালের নিউজ ও ছবি অনুমতি ছাড়া কপি নিষেধ  
Design BY NewsTheme